‘বদি ও তার ভাইদের ষড়যন্ত্রে হত্যার শিকার একরামুল’

গত শনিবার টেকনাফ সীমান্তে র‍্যাবের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত একরামুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।  নিহত একরামুল টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও তিনবারের পৌর কমিশনার ছিলেন। এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় ব্যক্তি জীবনে খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতেন তিনি।

যে ইস্যু ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে সেটা পুরোটাই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণ বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে। একরাম মাদক ব্যবসায়ের সাথে কোন ভাবেই জড়িত ছিলেন না বরং তিনি সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে ছিলেন। তবে কি মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারনেই জীবন দিতে হলো এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে? চলুন আমরা আরো কিছু তথ্য ও মতামতে সে বিষয়ে জেনে নেই।

একরামুল হত্যার মুল কারণ- ২০০৮ সালের একটি ঘটনা আছে, ব্যক্তিগত দ্বন্দের কারণে একরামুল হকের নাম মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় অন্তুর্ভূক্তি করেন। তখন একটি মামলাও হয়েছিলো একরামুলের বিরুদ্ধে। সেই সূত্রে ২০১০ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়েও একরামুল হকের নাম প্রথমবারের মত তালিকাতে স্থান পায়। আর সে সময়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত/প্রচারিত অনুসন্ধানি প্রতিবেদনেও তাঁর নাম দেখা যায়। একটা সময় ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার বদলির পর সে তালিকা সংশোধন করা হয়।

নিরাপরাধ ও জনপ্রিয় কমিশনার একরামুল হকের নাম বাদ পড়ে হাল নাগাদ সব তালিকা থেকেও! পারিবারিক ভাবে একরামুল হকের পরিবার টেকনাফ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাও। এখানকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিল তারা। টেকনাফের প্রথম বনেদি মুসলিম শাসকও একরামুল হকের দাদা। নিজ টাকায় পাহাড় কেটে টেকনাফ দমদমিয়া সড়ক তৈরী করার সুনামও অর্জন করেন তাঁরা।

অন্যদিকে বদির (যিঁনি বর্তমানে সংসদ সদস্য) বাবা এজাহার কোম্পানি রাখাইনের বাসিন্দা (রোহিঙ্গা) হওয়ায় স্থানীয়ভাবে রাজনীতিতে বদিদের অংশগ্রহণ মানতে পারেনি একরামুল হকের পরিবার। আর একরাম-বদির পরিবারের শত্রুতা সেই পুরনো বলেই স্থানীয় বাসীন্দারের মুখে শোনা যায়। আর দ্বন্দ ও শত্রুতার আরেকটি কারণ হচ্ছে, এমপি বদি ও তার ভাইদের বিতর্কিত সকল কর্মকান্ডে একরামুল হকের পরিবার সরাসরি প্রতিবাদ করে আসছে সেই শুরু থেকে।

যার কারণে একটা সময় বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে মোড় দিতে থাকে এমপি বদি ও তার ভাইয়েরা। ইতোমধ্যেই কক্সবাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার কতিপয় সদস্যের মুল চরিত্র সেনা বাহিনীর হাতে পরিস্কার হয়েছে। তাঁরা টাকার বিনিময় কী কী করতে পারে সেটা সরকারসহ গোটা জাতি দেখেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত শত্রুতার সাথে এমপি বদি ও তার ভাইদের যৌথ ষড়যন্ত্রে হত্যার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগের নিবেদীত কর্মী ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান জনপ্রিয় পৌর কমিশনার একরামুল হক। তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তার কারণে মাদকের তালিকায় একরামুল হকের নাম শোনা গেলেও (পরে তালিকা থেকে বাদ পড়ে) হত্যার সাথে সরাসরি ভাবে এমপি বদি ও তাঁর পরিবার জড়িত বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সোনালী এই সময়ে অনেক দোরোয়ান নেতা-খেতা হয়ে রাতারাতি কোটিপতি ও গাড়ি-নারীর মালিক হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত তথ্য মতে, একরামুল হকের মত জনপ্রিয় নেতারা টাকার অভাবে নিজের বাড়িটি পর্যন্ত করতে পারেনি। টাকার অভাবে নিজের দুটো মেয়েকে ভাইয়ের সহায়তায় লেখা পড়া করিয়ে আসছে।’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন আর শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষে যাঁরা রাজনীতি করে আসছে, এখনো করছে-মাদক বিরোধী অভিযানের নামে কি তাঁদের টার্গেট করে হত্যা করার মিশন চলছে..?

 

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *