এলার্জির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক (সজীব হাসনাত)

এলার্জির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

ড. মো: ছিদ্দিকুর রহমান

এলার্জিঃ

ধুলা-বালি পরিষ্কার করছেন কিংবা ফুলের গন্ধ নিয়েছেন? হঠাৎ করে শুরু হল হাঁচি, সর্দি বা শ্বাসকষ্ট। গরুর মাংস, ইলিশ মাছ বা চিংড়ি মাছ খেলেন? শুরু হলো চোখে বা গায়ে চুলকানি, চামড়ায় লাল লাল চাকা হয়ে ফুলে ওঠা। এগুলো সবই এলার্জির কারনে হয়ে থাকে।

এলার্জি কী ?

কোন কিছুর প্রতি শরীরের অস্বাভাবিক রকমের প্রতিক্রিয়া বা সংবেদনশীলতাকেই এলার্জি বলে। সহজভাবে বললে, মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিষ্টেমের কাজ ক্ষতিকর বস্তুকে (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও বিভিন্ন জীবাণু) প্রতিরোধ করা। কখনো কখনো শরীর, ক্ষতিকর নয় এমন অনেক বস্তুকে ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে৷ এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এই অস্বাভাবিক রকমের প্রতিক্রিয়া বা সংবেদনশীলতাকেই এলার্জি বলা হয়।

যার বহিঃপ্রকাশ হয় বিভিন্ন উপসর্গের মাধ্যমে। তখন ঐ বস্তুটি শরীরে আর সহ্য হয় না। এটা ঠাণ্ডা পানি/বাতাস , ধুলা-বালি ও খাবারের প্রতি হতে পারে। এসব সংবেদনশীল বস্তুকে এলারজেন বলে৷ এর মধ্যে রয়েছে ধুলা-বালি, ফুলের গন্ধ বা রেনু, কুয়াশা, ঠাণ্ডা বাতাস, খাবার যেমন- গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ কিংবা গরুর দুধ ইত্যাদি। এসবের প্রতি শরীরের এই সংবেদনশীলতাকে কোল্ড এলার্জি , ডাস্ট এলার্জি বা ফুড এলার্জি হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণত ইমিউন সিষ্টেমে গোলযোগ দেখা দিলে এলার্জির সমস্যা হয়।

এলার্জির লক্ষণ ও উপসর্গঃ

এলার্জি জনিত সর্দি কিংবা এলার্জিক রাইনাইটিসের উপসর্গ হচ্ছে, অনবরত হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকায় ও লাল হয়ে যায়। অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট সহ ঘন ঘন কাশি, বুকের ভিতর সাঁই সাঁই শব্দ ও বুকে চাপ চাপ লাগা। ত্বকে চাকা চাকা হয়ে ফুলে ওঠা- সাথে চুলকানি ও রেস হওয়া। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রায়ই ঠান্ডা লাগা।

চিকিৎসকদের মতে ধুমপান ছাড়ার উপায়

এলার্জি কীভাবে পরীক্ষা করা হয় ?

Skin Prick Test- ডাস্ট, মাইট, ফুলের রেণু, ফাঙ্গাস,ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য দিয়ে ত্বকে অ্যালার্জি টেস্ট করা হয়। Cir Eosinophil Count- রক্তের ইয়োসিনোফিলের মাত্রা এলার্জির সমস্যায় বেশি হয়৷ Serum Ige সাধারণত এলার্জি রোগীদের ক্ষেত্রে IgE এর মাত্রা বেশি থাকে।

এলার্জির চিকিৎসাঃ

আধুনিক এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় এন্টি হিস্টামিন বা এন্টি এলার্জিক ঔষুধ দিয়ে এটি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে অ্যালার্জির উপসর্গ দমানো যায় কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ করা যায় না। কিন্তু এলার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে তা পরিহার করে চলা ও নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়।

এলার্জির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা:

এলার্জি নিয়ন্ত্রণের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসব এন্টি হিস্টামিন ঔষুধ সাড়া জীবন খেতে হয়৷ তারপরও স্থায়ীভাবে সুস্থ্য হওয়া যায় না, অন্যদিকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এটি স্থায়ীভাবে আরোগ্যের জন্য খুবই কার্যকরী চিকিৎসা রয়েছে। যদিও লক্ষণভেদে ঔষধ নির্বাচন করবেন আপনার চিকিৎস। তবে নিম্নলিখিত ঔষধগুলো এলার্জি নিরাময়ে প্রায়ই সফলতার সাথে ব্যবহৃত হয়-

মন ভালো ও সুন্দর রাখার উপায়

Nux Vom, Cal Carb, Hep Sulph,  Teucrium,  Lac Can, Thuja Sabadila, Tuberculinum ও Lem minor প্রভৃতি৷ এলার্জিক রাইনাইটিসে সর্দি সহ হাঁচি থাকলে- Kali bich-12 দেয়া যেতে পারে৷ সাথে বায়োকেমিক- Nat Sulph-12X ও Nat Mur-12X দেয়া যেতে পারে।

লেখক- চিকিৎসক, বেস্ট কেয়ার হোমিও চেম্বার টাঙ্গাইল।

বানিমি/আজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *