প্রতিবাদ করার অধিকার যারা অস্বীকার করে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী : আসিফ নজরুল 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাবি : শারিরিক নির্যাতন, চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত, মিথ্যে মামলা, অপবাদ সহ -কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ৪ ধরনের অন্যায়ের স্বীকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

রবিবার বেলা বারোটার দিকে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকবৃন্দের পদযাত্রা’ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের সন্তানরা চার ধরনের অন্যায়ের স্বীকার হয়েছেন।

এক নম্বর হলো তাদেরকে হাতুড়ি পেটা করা হয়েছে, মেয়েদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অন্যায়-তাদেরকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এসময় তিনি বলেন, এদেশের হাসপাতাল কোনো প্রধানমন্ত্রী, সরকার বা রাজনৈতি দলের হাসপাতাল না। এটা মানুষের ,জনগণের অর্থে পরিচালিত হাসপাতাল।

তৃতীয় অন্যায়-তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে।

চতুর্থ অন্যায় তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপবাদ দেয় হয়েছে।

আইন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, প্রতিবাদ করার অধিকার হলো সবচেয়ে মৌলিক একটি মানবাধিকার। প্রতিবাদ করতে পেরেছি বলে আমাদের প্রাণ-প্রিয় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। প্রতিবাদ করার অধিকার যারা অস্বীকার করে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী-সংবিধান বিরোধী।

তিনি আরও বলেন, এদেশ এখনও মুসলিনি বা হিটলারের দেশ হয়ে যায়নি। এদেশে এখনও সংবিধান স্থগিত করা হয়নি, মার্শাল ল জারি করা হয়নি। এরকম পরিস্থিতিতে যারা ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতে ভয় পায়, লোভের কাছে আত্মসমর্পন করে; আমরা মনে করি তারা নিন্দার যোগ্য।

তিনি ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রতি নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘অতীতে আমরা দেখেছি ছাত্ররা আক্রান্ত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এমনকি প্রশাসনও তাদের পাশে এসে দাঁড়াত, অন্তত তাদের চিকিৎসা সেবা দিত। সেখানে আমরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি।’

অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘ধারাল অস্ত্র দিয়ে কাউকে আঘাত করা যাবতজ্জীবন কারাদন্ড যোগ্য অপরাধ। যারা এই অপরাধ করেছে তাদের গ্রেফতার দাবি করছি। আহতদের চিকিৎসা সেবার দাবি জানাচ্ছি।’

শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ থেকে তিনি পদযাত্রায় এসেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘শিক্ষকরা ডাকলে এরকম আন্দোলনে সবার আসা উচিত।’

বানিমি/আজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *