রাজনীতিতে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের ভবিষ্যৎ কি?

(মোঃ আবুল বাশার) বাংলা নিউজ মিডিয়া

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী অবস্থায় রয়েছেন খালেদা জিয়া।

এখন দলের দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। তিনিও দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও বহু মামলায় অভিযুক্ত।

বেগম খালেদা জিয়ার নামে আরো অনেক গুলো মামলা বিচারাধীন আছে। এবং বেশ কিছু মামলায় এখনো চার্জ শীট দেয়নি পুলিশ।

এমন অবস্থায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিএনপির সময় অসময় গ্রন্থের লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন” জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর এরশাদের সময় ও বিএনপি সংকটে পড়েছে। এক এগারোতেও বড় একটা ধকল পোহাতে হয়েছে বিএনপি কে। তবে এবারের পরিস্থিতি বেশ জটিল।

বিএনপি দল হিসাবে এখনো টিকে আছে । কিন্তু সমস্যা হল দলের মধ্যে সংহতি থাকবে কিনা।ইতিপূর্বে বিএনপি থেকে অনেকে চলে গেছেন আবার ফিরেও এসেছেন।আবার চলেও যেতে পারেন। সরকারের পক্ষ থেকে অনেক লোভনীয় টোপ দিতে পারে। তাই বিএনপির জন্য সময়টা বেশ জটিল।

যদিও বিএনপির মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন তাদের নেতা জেলে যাওয়ায় বিএনপি আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ্য। মামলা দিয়ে তাদের নেতাকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারবে না। বিএনপি অটুট আছে । অটুট থাকবে। সরকার মামলাকে একটা বড় হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। তিনি আরো বলেন আমাদের বিশ্বাস দেশের জনগন এবং আমাদের কর্মী বাহিনী কে সাথে নিয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যে যেতে পারব।

একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে বিএনপির চূরান্ত লক্ষ্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা। প্রায় ১২ বছর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এদিকে দলীয় চেয়ারপার্সন জেল খানায় বন্দী এবং তাঁর বিরুদ্ধে আরো অনেক গুলো মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।তারেক রহমান যে দেশে ফিরবেন । সেই পরিস্থিতি ও নেই।

মহিউদিইন আহমেদ বলেছেন” যেহেতু এই দলগুলো একক ব্যাক্তি কেন্দ্রিক । এই দলে সেকেন্ড ম্যান বলে কিছু নেই। যাকে সেকেন্ড ম্যান বলা হচ্ছে তিনিও দৃশ্যমান নয়।এটাও আরেকটা সংকট। এই সংকট টা আরো প্রকট মনে হচ্ছে। কারন এবছর নির্বাচনের বছর।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি যদি ভাল ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মোকাবেলা করতে না পারে তাহলে তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হবে।

দলীয় ভুল সিদ্ধান্তের কারনে বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেনি। এবার বিএনপি এই ভুল করতে চান না। ঠিক এই সময় বিএনপির চেয়ারপার্সন কারাবন্দী বিএনপির পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।

মি আহমেদ মনে করেন ” যেকোন কিছু ঘটতে পারেন। এই অনাকাংখিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যে কারিশমা এবং নেতৃত্ব দরকার সেটা খালেদা জিয়া ছাড়া দলের মধ্যে আর কারো নেই। দলে যদি সঠিক নেতৃত্ব না থাকে। দলের পাচ নেতা পাচ রকম কথা বলেন । তাহলে দল নির্বাচন করার মত সামর্থ্য হারাবে।

এই অবস্থায় খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার  রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আদালতের রায়ের উপর।

বর্তমান সরকার বিরোধী দল দমনে কঠোর অবস্থানে তা স্পষ্ট। এই অবস্থায় বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে কী কোনো ভাবনা আছে বিএনপিতে?

এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখ্রুল ইসলাম আলমগীর বলেন বিএনপিতে নেতৃত্বের কোন সংকট নেই।এগুলো নিয়ে আমরা একটুও চিন্তিত নই। এটা পার্ট অব পলিটিক্স।যতই নীল নকশা করা হোক জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে সরানো যাবে না।

খালেদা জিয়ার নামে মোট কতটি মামলা রয়েছে?

বিএনপির শক্তি দিন দিন কমছে : কা‌দের

খা‌লেদা জিয়া ও তা‌রেক রহমান‌কে ছাড়া বিএন‌পি কি নির্বাচ‌নে যা‌বে?

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি একটি পরিবার কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল।

“পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির সমস্যাটা হচ্ছে এখানে যদি পরিবার থেকে ঐ ধরনের ক্যারিশম্যাটিক লিডার বেরিয়ে না আসেন আরেকজন । তখন ঐ রাজনীতি আর টেকে না বেশিদিন।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন অতীতে আমরা দেখেছি মুসলিম লীগ এবং কৃষক শ্রমিক পার্টি ও ন্যাপের একই পরিণতি হয়েছে।তার মতে বাংলাদেশে সামন্ত ধাঁচের মানসিকতা আমরা পরিবারগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। জিয়া পরিবার থেকে কাউকে বের করতে হবে। পরিবারের বাইরে নেতৃত্ব দেওয়া যাবে না। স্থায়ী কমিটির কেউ কাউকে মানে না। পরিবার থেকেই কাউকে না কাউকে আসতেই হবে।

এই ক্ষেত্রে তারেক রহমানের স্ত্রী ছাড়া আর কাউকে দেখেন না বলে লিখেছেন মহিউদ্দিন আহমেদ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *