কবরে থাকার জন্য একজনকে ধরে আনা হল জোর করেঃ মাহবুব কবির মিলন

ফেসবুক ডেস্কঃ

একদিন বেবি ট্যাক্সিতে বাসায় ফেরার পথে চালক আমার হাতে ৮ জিবির একটি পেনড্রাইভ দিয়ে বলল, ভাইজান এটা সিটে পেয়েছি, কে যেন ফেলে গিয়েছে। ধন্যবাদ দিয়ে মালিককে ফেরত দেয়ার চেষ্টার নিশ্চয়তা দিয়ে বাসায় এসে খুলে দেখলাম, তাতে সন্দ্বীপের একটি স্কুলের রেকর্ড পত্র, কিন্তু স্কুলের নাম নেই। পেন ড্রাইভে নাম লিখা অনুপ।

চট্টগ্রামে আগ্রাবাদ সিডিএ শিক্ষা অফিসে শিট জমা দেয়া হয়েছে সম্ভবত। শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে আমার নাম মোবাইল নাম্বার দিয়ে আসলাম। সন্দ্বীপের কোন স্কুলে অনুপ নামে কাউকে পাওয়া যায় কিনা।

কয়েকদিন পরে তাঁর সাথে কথা বললে, তিনি এমন কাউকে পাননি বলে জানালেন। সন্দ্বীপের ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলে বিষয়টি জানালাম এবং খুঁজতে বললাম, কোন স্কুলে অনুপ নামে কাউকে পাওয়া যায় কিনা। সেখানেও ব্যর্থ।

বাসায় বাচ্চাদের বিষয়টি বলে সেই পেনড্রাইভ ব্যবহার না করার জন্য বলে দিলাম। বাচ্চাদের বুঝিয়ে বললাম, মা এটা আমানত। যত্ন করে রেখে দেবে, যতদিন অনুপ নামের কাউকে পাওয়া না যায়।

পেন ড্রাইভটি এখনও আছে, যত্ন সহকারে তা সংরক্ষিত। মালিককে যদি পাওয়া যায়। ছোটবেলায় আমার দুই বাচ্চা প্রায়ই স্কুল থেকে এসে অভিযোগ দিত, বাবা আমার রাবার পেন্সিল ব্যাগ থেকে কে যেন নিয়ে গেছে। আহারে বাচ্চাদের শিক্ষা!! আহারে বাবা মা!! একটি গল্প পড়ে প্রায় হাসি। যতবার পড়ি ততবারই হাসি।

পুরাতন গল্প, আবার বলি। এ কারণেই উপরের কাহিনীর অবতারণা।

রাজার সন্তান মারা গেছে। কবরে তিনদিন হিসাব নিকাশ হবে। মৃত বাচ্চাকে সাহায্য এবং যাতে বাচ্চা ভয় না পায়, তার জন্য তিনদিন কবরে রাজার ছেলের সাথে শুয়ে থাকতে হবে জীবিত একজনকে। রাজার নির্দেশ।

কবরে থাকার জন্য একজনকে ধরে আনা হল জোর করে। প্রথম রাতে থাকার পর সকালে পড়ি কি মরি করে কবর থেকে ছুটে এল সেই লোক।

এসে রাজার পায়ে লুটিয়ে পড়ে কাঁদতে লাগল। রাজা মশাই আমাকে বাঁচান। কেন কি হয়েছে? রাজা মশাই। কবর দিয়ে আপনারা চলে আসার পর আমি শুয়ে আছি কবরে, আপনার ছেলের পাশে। একটু পর ইয়া দর্শন ফেরেশতারা এসে আপনার ছেলেকে না ধরে আমাকে চেপে ধরল আগে। আছাড় মারে আর দড়ির হিসাব নেয়।

দড়ি?

হুজুর একদিন পথে এক টুকরো দড়ি পড়ে থাকতে দেখে তা তুলে নিয়েছিলাম। দড়ির মালিককে না খুঁজে তা বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলাম। হুজুর, তাঁরা বলেছে কেয়ামত পর্যন্ত আমাকে এভাবে আছাড় মারবে। রাজা কাঁদে আর কাঁদে।

হায়হায়!! তাহলে আমার ছেলের কি হবে, আমার কি হবে!!! ……………………… তাহলে আমাদের কি হবে???

লেখকঃ মাহবুব কবির মিলন

সদস্য ( যুগ্ম সচিব)ঃ  ফুড সেফটি অথরিটি ,গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার  ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *