মিরান্ডা’র ছোঁয়ায়; হেসে-খেলে নক আউটে নেইমারের ব্রাজিল !

আব্দুল জব্বার  (স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট)

সার্বিয়াকে ঠান্ডা মাথায় রুখে দিলো নেইমারের ব্রাজিল

কিংবা,

গ্রুপ চ্যাম্পিয়নে নক আউটে সেলেসাওরা

এদুটো হেডলাইনেও সাজানো যেত ব্রাজিলের জয়ের কথা। কিন্তু আমার কাছে, অধিনায়ক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় নিজদের শেষ ম্যাচে যে মিরান্ডাকে অধিনায়ক করে দলকে মাঠে নামালেন সেলেসাও কোচ তিতে। সেই মিরান্ডাকে শিরোনামে বেছে নিতেই মন সায় দিলো বারবার; কারণ তাঁর নেতৃত্বেই যে ব্রাজিল তাদের কার্যকরি জয় টা পেল।

মস্কোর ‘স্পার্কটেক’ স্টেডিয়ামে নিজদেরকে দ্বিতীয় রাউন্ডে তোলার মিশনে সার্বিয়ার মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। কম পক্ষে ড্র করতে হবে এমন ম্যাচের শুরু থেকেই সার্বিয়াকে চেপে ধরে নেইনারের ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলের ড্র আর কোস্টারিকার সাথে দ্বিতীয় সাথে জয়। চার পয়েন্ট নিয়ে তাই মোটামুটি চাপেই পড়ে পাচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

প্রথম দশ মিনিটে ব্রাজিলের পায়ে বল বেশি থাকলেও গোলের দেখা পায়নি কোতিনহো, নেইমার।

নিজেদের ইতিহাসে কলঙ্ক লাগালো জার্মানি! 

বিশ্বকাপে ব্রাজিল ভক্তদের জন্য অর্ধেক ভাড়া!

জার্মানিকে হারানো অষ্ট্রিয়া, পাত্তাই পেলনা ব্রাজিলের কাছে!

ম্যাচ শুরুর ৮ মিনিট পরেই ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল তারকা মার্সেলো। তার পরিবর্তে মাঠে নামে ফিলিপে লুইজ। দশ মিনিট পর খেলা অবশ্য নিজদের দখলে নিতে চেষ্টা করে ইতিমধ্যে বাদ পরা দল সার্বিয়া। তবে ব্রাজিলের শক্তিশালী ডিফেন্সের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় সার্বিয়ার আক্রমণ।

গত ম্যাচে গোল পাওয়া ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারকে প্রথম ২০ মিনিটে সেভাবে খুজে পাওয়া যায়নি। ২৪ মিনিটে দলীয় সমন্বয়ে দারুণ এক পরিকল্পিত আক্রমণ চালায় ব্রাজিল। নেইমারের শট সার্বিয়ার গোল রক্ষক হাতে দিয়ে সরিয়ে দিলে গোল বঞ্চিত হয় ব্রাজিল। যদিও ২০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে ব্রাজিলের দখলে চলে যায়।

২৯ মিনিটের সনয় নেইমারের মাঝ মাঠ থেকে পাসে- বল পেয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। সার্বিয়াও ৩৩ মিনিটে নজরকাড়া এক আক্রমণ চালায় ব্রাজিল শিবিরে।

পরের মিনিটেই গোল দিয়ে ব্রাজিল পালটা জবাব দিয়ে দেয় ব্রাজিল। এবারের আসরের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় কোতিনহোর মাঝ মাঠ থেকে চোখ ধাঁধানো পাস থেকে দারুণ ভলিতে সার্বিয়ার গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন বার্সা খেলোয়াড় পলিনহো।

প্রথমার্ধের শেষ বাশি বাজার সামান্য আগে নেইমারের বাকানো শট গোল বারের সামান্য উপর দিয়ে গেলে আগের ফল নিয়েই বিরিতিতে যায় দু দল। বিরতি থেকে ফিরে দু দুলই কিছুটা ঝিমানো খেলা উপহার দেয়।

সার্বিয়া বেশ কয়েকটি আক্রমণ করার চেষ্টার বিপরীতে ৫৬ মিনিটে নেইমারের কাউন্টার এ্যাটাকটা দেখার মতো ছিলো। যদিও সম্ভবনা জাগিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন নেইমার।

৬০ মিনিটে সার্বিয়ার দারুণ আক্রমণ থেকে ব্রাজিলকে রক্ষা করেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতর সেরা ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা।

৬৫ মিনিটের ভিতর আরো কয়েকটি আক্রমণ চালিয়ে ব্রাজিলীয় ডিফেন্সের ভালো পরীক্ষা নেয় সার্বিয়া।

গোলের জন্য মরিয়া সার্বিয়া নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা চলতে থাকে।

একটু ঢিলেমি দেওয়া ব্রাজিলকে খেলায় ফেরান পিএসজি স্টার নেইমার।

৬৭ মিনিটে তার জাদুকরি কর্ণার কিক থেকে কারিশমা মাখানো হেডে গোল ব্রাজিলকে গোল এনেদেন আরেক পিসজি তারকা থিয়াগো সিলভা।

দ্বিতীয় গোল পেয়ে ব্রাজিল যেন আরেকটু নড়েচড়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমনণে সার্বিয়াকে হাফিয়ে  ফেলে।

প্রথমার্ধে নেইমারকে সেভাবে খুজে পাওয়া না গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে জ্বলে ওঠেন ওয়ান্ডার বয়।

নেইমারের জ্বলে ওঠার পরেই সার্বিয়াকে নিয়ে ছেলে খেলায় মেতে ওঠে টিম ব্রাজিল।

৮২ মিনিটে চেলসি তারকা উইলিয়ানের দারুণ ক্রস থেকে নেইমার ভালো শট করলেও গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে বল চলে যায়।

৮৬ মিনিটেও সার্বিয়ার গোল কিপার নেইমারকে আরেকবার গোল বঞ্চিত করেন।

তবে, যেমন ধারালো ফুটবল খেলার কথা  ছিলো, তেমন খেলার পরিবর্তে ব্রাজিলকে ঠান্ডা মাথায় আধিপত্য বিস্তার করতে দেখা গেছে পুরো খেলায়। তাই বলা যায়, সার্বিয়াকে হারাতে ব্রাজিলের তেমন পরিশ্রমী করতে হলো না।

বানিমি/আজ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *