যে কথা কেউ বলে না : কামরুল ইসলাম

ফেসবুক ডেস্ক

যে কথা কেউ বলে না

Kamrul Islam

আমার ছেলে বেলার বেশীর ভাগ সময় কেটেছে এমন এক স্থানে যেখানকার মানুষ আমাকে অনেক কিছু শিখতে, বুঝতে ও অনুধাবন করতে সাংঘাতিক রকমের সাহায্য করেছে। আর আজ এত গুলো বছর কেটে যাবার পরে আমি সেটা আরো ভালো ভাবে অনুধাবন করতে পারছি।

উল্লেখ্য যে, আমার ছেলে বেলার বেশীর ভাগ সময় কেটেছে আমার দাদা বাড়ীতে, আর সেই গ্রামের ৯৫% মানুষ হিন্দু ধর্মের অনুসারী… তবে, ছোট বেলা থেকে আজ পর্যন্ত, আমি কোন দিন ও দেখিনি গ্রামের গুটি কয়েক ঘর মুসলিম ধর্মের অনুসারীদের সাথে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের সামান্য তম সংঘাত বা কোন রকমের বিবাদ।

ছোট বেলা থেকে আমি এমন এক পরিবেশে বেড়ে উঠেছি যে, গ্রামের হিন্দুদের সাথে ছিলো আমার অন্য রকম এক সম্পর্ক, যা কিনা আমার এখন ও রয়ে গেছে।

যখন – তখন হিন্দু বাড়িতে যাওয়া আসা ছিলো আমার, শুধু তাই নয়, আমি গেলেই তারা আমাকে আদর করে বসতে দিতেন, থালায় করে খেতে দিতেন মুড়ি, খৈ, লাড়ু (যা কিনা আমার খুব ই পছন্দের), মিষ্টি সহ আরো অনেক কিছু, ছোট থাকার কারণে এত বেশী খেতে পারতাম নাহ। অর্ধেক টা খেতাম আর বাকী অর্ধেক টা বাড়ীতে নিয়ে আসতাম, পরে খাবো বলে।

আগে নিয়ম করে ঈদ করার জন্য গ্রামের বাড়ীতে যেতাম। কোরবানীর ঈদের ঠিক পর পর ই শুরু হতো হিন্দু দের কালী পুজা। সে সময় টা ছিলো আরো বেশী আনন্দের। তখনকার দিনে যে বাড়ীতে পুজা হতো সে বাড়িতে যাত্রা পালার ব্যাবস্থা করা হতো। এখন অনেক বছর হয়ে গেছে যা আর হয় না।

আপনি ভয় দেখাবেন আর আমি ভয় পাবো, এমন ভাববার কারন কি?

তো তখন আমরা চাচাতো ফুফাতো ভাই বোনরা যেতাম হিন্দু বাড়িতে পুজা দেখতে। সাথে বোনাস হিসেবে দেখে নিতাম যাত্রা পালা টাকেও। যে কয়েক টা দিন পুজা অনুষ্ঠিত হতো সারা গ্রামে যেন হই হই রই রই অবস্থা বিরাজ করতো।

আর, মাঝে মাঝে হিন্দু বাড়ীতে আয়োজন করা হতো হরেক রকমের কীর্তন। শ্রী কৃষ্ণ কীর্তন থেকে শুরু করে আরো হরেক রকমের কীর্তন করা হতো সেখানে। এখন ও হয় কিনা খুব একটা জানা নেই আমার।

আমার দাদার সাথে কীর্তন শুনতে যেতাম আমি, আমার দাদা বসে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে উনাদের কীর্তন শুনতেন।

আজ এত গুলো বছর বাদে এসব কথা লেখার এক্টাই উদ্দেশ্য, সাম্প্রদায়িকতা কি জিনিস আমি জানি নাহ, অসাম্প্রদায়িকতা নিয়ে মাতামাতি করা টা কি আমি বুঝি নাহ। কারণ, আমি হলফ করে বলতে পারি, ছোট বেলায় আমি আমার গ্রাম থেকে যা পেয়েছি তা অনেকেই এখন কল্পনাও করতে পারবে নাহ বা আজ থেকে ২০/৫০ বছর পরে এসব কথা গুলো রূপকথা হিসেবে গণ্য করবে তখন কার ছেলে মেয়েরা।

বানিমি।আজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *