রোজায় সুস্থ্য থাকুন নিজের বুদ্ধিতে

অনলাইন ডেস্ক

সুস্থ্য থাকাটা আসলে নির্ভর করে নিজের উপর এবং কিভাবে নিজেকে নিজে ভালো রাখা যায় এটাও আমরা সবাই জানি। বড় কারণ হয়ে দাড়ায় যে বিষয়টা সেটা হলো, অসাবধানতা, বেখেয়ালিপনা। ধরুন আকাশে ভীষণ মেঘ জমেছে, আপনি জানেন বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর-সর্দি হতে পারে। যদি আপনি সচেতন হয়ে থাকেন তাহলে আপনি অবশ্যই ছাতা নিয়ে বের  হবেন যেন, বৃষ্টিতে ভিজতে না হয়, আপনি যেন অসুস্থ্যতা থেকে বেচে যান।

তেমনিভাবে রোজায় সুস্থ্য থাকার কি উপায় কি করতে হয় সেটা কমবেশি আমাদের সবার জানা। কিন্তু তারপরও আমরা প্রত্যেকদিন ইফতার, সেহরি, কাজ , বিশ্রামে কিছু অসাবধানতার ফলে ভোগ করি নানা রকম অসুবিধার কিংবা অসুস্থ্যতা্র। রোজায় যেহেতু খাদ্যভাসে পরিবর্তন আসে সেহেতু আমাদেরকে সেই ভাবেই মানিয়ে নেয়ার অভ্যাস করে নিতে হবে এবং একটু সচেতন থাকতে হবে।নিচে কিছু কার্যকরি টিপস, নিয়মাবলী উল্লেখ করা হলো  যেগুলো মেনে চললে আমরা মুক্তি পেতে পারি কমন কিছু সমস্যা থেকে।

 ক) সেহরি :

১) রোজার মাসে ্সেহরির উপর নির্ভর করে সারাদিন আপনার সুস্থ্য থাকার বিষয়। সেজন্য অবশ্যই সেহরিতে খাবার হিসেবে রাখুন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।

২) মজাদার, সুস্বাদু কিংবা তৈলাক্ত খাবার থেকে একদম দূরে থাকুন।তেল, মসলা যতো পারুন এড়িয়ে যান। মাছ, মাংস, সবজি, ডাল বেশি করে খেতে পারেন। দুধ, ডিম, ফলমূল অবশ্যই খেতে হবে সেহরিতে।

৩) পানি যতোটুকু দরকার ততোটুকু পান করুন। ভুলেও একদম পেট ভর্তি করে পানি খাবেন না তাহলে আপনার অনেক ধরনের সমস্যা হবে।

৪) খাবার খাওয়া শেষে ব্রাশ করে সুন্দর করে ফ্রেশ হয়ে নিতে পারেন তাহলে অস্থিরতা ভাবটা কেটে যাবে।

৫) সেহরি খাওয়ার সাথে সাথেই শুতে যাবেন না। সম্ভব হলে একটু হাটাহাটি করুন, তারপর ঘুমাতে যান।

৬) ফজরের নামাজের দিকে খেয়াল করুন নামাজ পড়লে আপনার প্রাথমিক ব্যায়ামটা হয়ে যাবে।

খ) কাজের সময় ঃ

১)যদি কাজের তারা না থাকে তাহলে একটু বেলা করে ঘুমাতেই পারেন আর যদি সকাল বেলাই আপনাকে বের হতে হয় তাহলে রাতে আগে আগেই ঘুমিয়ে পড়তে হবে।

২) যাদের ঘুমের স্বল্পতা থাকে তাদের কাজের মধ্যে নানা সমস্যা হয়ে থাকে।কাজ করে শান্তি পাবেননা, মেজাজ ঠিক থাকবে না, কারো কথা শুনতেও ভালো লাগবেনা।

৪) তাই আপনার সারাদিনের কাজের জন্য রাতের ঘুমের ব্যাপারে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।

৫) বাইরে বের হবার আগে সানগ্লাস, ছাতা নিয়ে বের হবেন।ধূলা বালি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাস্ক পড়ে নিতে পারেন।ঃ

৬) দুপুরবেলা শারিরিক ক্লান্তি  দূর করতে অবশ্যি জোহরের নামাজ পড়ুন, অনেক ক্লান্তি চলে যাবে এবং শক্তি ফিরে পাবেন।

গ) ইফতার :

১)সারদিনের অনেক পরিশ্রম, কাজ করার পর শরীরের যত্ন করতে হবে বাসায় ফিরে ইফতারের আগে ও পরে।

২)  সেজন্য ইফতারিতে ভুলেও তেল-চর্বি যুক্ত খাবার খাবেন না।

৩) পানি জাতীয় খাবার বেশি পরিমানে খান যেমন- ফলের শরবত, ডাবের পানি, দই-চিড়া, হালিম, ফল খেতে পারেন তাহলে গ্যাস্ট্রিকের জ্বালা থেকে রেহাই পাবেন।

৪) সারাদিন উপোস থাকার পরে ইফতারের সময় খুব বেশি পরিমানে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন তাহলে অনেক গুলো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

৫) ইফতার করার পরপরেই চা, কফি, সিগারেট খাওয়া শুরু করবেন না, অন্তত ২০ মিনিট না গেলে এই খাবার গুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

৬) ইফতার করার পর থেকে প্রচুর পরিমান পানি পান করুন এবং পুষ্টিযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন।

 

বানিমি/আজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *