‘শিউলী ফু‌লের কাব্যকথা’ মোহাম্মাদ আলী আকন্দ

শিউলী ফু‌লের কাব্যকথা

মোহাম্মাদ আলী আকন্দ

এক‌টি ফুল অামা‌কে নিরন্তর বিভ্রান্ত ক‌রে ‌-

স্মৃ‌তিকাতরতায় দগ্ধ হই অ‌বিরাম
‌ফি‌রে যাই ‌প্রিয় শৈশ‌বে, অামার

অাপন বেলায়।

খুব সকা‌লে লেখা শিখ‌তে যেতাম
রাধাকান্ত বাবুর কা‌ছে
সূর্য উঠি উঠি ক‌রে যখন- তখন,
রাধাকান্ত বাবু অামা‌কে লেখা শি‌খি‌য়ে
স্নান‌ গোসল পূঁজা পাঠ সে‌রে
অাটটার ম‌ধ্যে রওনা হ‌য়ে যেতেন অা‌পি‌সে
অ‌নেকটা পথ, প্রায় সাত অাট ক্রোশ_
‌দ্বিচক্রযান ছিল তার বাহন।
তালপাতার ওপর গোটা গোটা ক‌রে লিখ‌তেন
অ অা ক খ গ ঘ ঙ
অা‌মি মুগ্ধ হ‌য়ে দেখতাম অার
‌চেষ্টা করতাম লি‌খিবার।

রাধাকান্ত বাবুর ব‌াহির-ভিটা
‌যেখা‌নে অামরা শীতলপা‌টি পে‌ড়ে বসতাম
‌লেখা শেখাবার জন্য, শি‌খিবার জন্য
‌সেখা‌নে এক‌টি বৃক্ষ ছিল,
‌রোজ সেখানটা স্নিগ্ধ গ‌ন্ধে
মাতাল হ‌য়ে থাক‌তো
ছোট ছোট শুভ্র ফু‌লের দারুন শয্যায়
অাশ্রয় হ‌য়ে যে‌তো অামার শৈশব সময়
যোগীতাদি’ রাধাকান্ত বাবুর স্ত্রী
অামার কা‌ছে দেবী…
‌সেই ফু‌লে পূঁজা দিত
‌গো‌বি‌ন্দের চর‌ণে, নিয়ত প্রত্যু‌ষে।
এক‌দিন যোগীতা‌দি‌’কে জিজ্ঞেস ক‌রে‌ছিলাম
‌এ ফু‌লের কি নাম?
উত্ত‌রে ব‌লে‌ছিল যোগীতা‌দি’ – ‌শিউলী।
তারপর কতদিন কত যুগ ধ‌রে
গো‌বিন্দ ভে‌বে‌ছি নি‌জে‌কে
অার ম‌নে ম‌নে অর্ঘ্য নি‌য়ে‌ছি
‌শ্বেতশুভ্র শিউলী ফু‌লের।

মোহাম্মাদ জাকারিয়ার ছোটগল্প: পতাকা

এখন অার রাধাকান্ত বাবু নেই
‌যোগীতাদি’ও,
‌কিন্তু সেই শিউলী গাছটা অা‌ছে ঠায়
অজস্র শিউলী স্নিগ্ধ ক‌রে, মায়াবী ক‌রে
প্র‌তিটা সকাল।
শুদ্ধ ক‌রে মানু‌ষের মন প্র‌তি‌দিন,
পা‌ল্টে দেয় দানব‌দের ক্রুঢ় অাচরন
প‌বিত্র ক‌রে মান‌বিক স্বত্বা,
‌যোগীতা‌দি’র অ‌নিবার্য্য প্রেম
অামা‌য় নিরন্তর ডোবায় নি‌শ্চিত
‌গো‌বি‌ন্দের অ‌স্তিত্ব টের পাই নি‌জের ভেতর
‌শিউলী তখন একান্ত অাকাঙ্খা হ‌য়ে ও‌ঠে
অামার, হৃৎ‌পি‌ন্ডের কোঠ‌রে
এখনও _ এই অবেলায়।

লেখক- কবি ও উপজেলা চেয়ারম্যান, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *