সাভারে দন্ত চিকিৎসা ব্যবসা করছে অর্ধশতাধিক ভুয়া ডাক্তার

 আনিসুর রহমান (দিপু), সাভারঃ

স্বীকৃত কোন প্রতিষ্ঠানের সার্টফিকেট নেই! নেই বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সনদও। তবুও সাভার পৌর শহরে প্রায় অর্ধশতাধিক ভুয়া চিকিৎসালয় খুলে চিকিৎসা ব্যবসা করে যাচ্ছেন চিকিৎসক নামধারী কিছু অশিক্ষিত ব্যক্তি।

এদের ডেন্টাল সার্টিফিকেটতো দূরের কথা মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেটই কারোর আছে কারোর নেই।

কিন্তু এদের প্রত্যেকেই নামের সাথে বিএসসি ইন ডেন্টাল, সিডিএস, বিডিপি, বিডিএসটির মতো কয়েকটি ডিগ্রী যোগকরে নোংরা ঘিঞ্চি পরিবেশে চেম্বার খুলে রোগীদের সঙ্গে প্রতারনা করে আসছে। সরেজমিন দেখা যায়- হাতেগনা কয়েকটি ডেন্টাল কেয়ার বা দন্ত চিকিৎসালয় বাদে সবকয়টি ডেন্টালেই অশিক্ষিত কিংবা সর্বোচ্চ উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা ব্যক্তিরা দন্ত চিকিৎসার রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এদের কেউ কেউ আবার ডিপ্লমা পাশ করে সরাসরি চিকিৎসক পদবী ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক চেম্বার বসিয়ে দীর্ঘদিন যাবত রোগীদের অস্ত্রপাচারসহ ভুয়া চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন।

সাভারে আ’মী লীগ যুবলীগ গোলাগুলি আহত ১২ , গ্রেফতার ৩

সাভারে নোংরা পরিবেশে তৈরী হচ্ছে ভেজাল লাচ্ছি সেমাই!

জাবি শিক্ষক আসাদের নেতৃত্বে সাভারে চলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মহোৎসব!

সাভারে এমন ডেন্টাল ব্যবসা করছে মর্ডান ডেন্টাল এন্ড হারবাল, এ্যাপলো ডেন্টাল এন্ড সাপ্লাই, শাহীদা ডেন্টাল, মাদার রহিমা ডেন্টাল, বিসমিল্লাহ্‌ ডেন্টাল, আলিফা ডেন্টাল, বরিশাল ডেন্টাল, আসাদ ডেন্টালসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ডেন্টাল কেয়ার। অভিযোগ আছে- এরা মাধ্যমিক পাশ না করেই পদবীতে ডাক্তার এবং নামের সাথে দেশী-বিদেশী বেশ কয়েকটি ডিগ্রী বসিয়ে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, ওয়াপদা রোড, বাজার রোড, এমনকি বিভিন্ন আবাসিক ভবনে ডেন্টাল কেয়ার নামের দন্ত চিকিৎসালয় খুলে নিয়মিত রোগী দেখছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় কিছু ঔষুধ ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা জায়- মুদি দোকানের মতো করে দাতের দোকান খুলে বসেছে চিকিৎসক নামধারী কিছু অসাধু ব্যক্তিরা। তারা জীবানু মুক্তকরন ছাড়া একই যান্ত্র একাধিক ব্যক্তির মুখে ঢোকাচ্ছে। এতে অনেকের দাতের সমস্যা ভালো হওয়া বাদে মারাত্মক সংক্রামন দেখা দিচ্ছে। এখনই প্রশাসনের এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে সাভারে র‍্যাবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান চালিয়ে ১০জন ডাক্তার নামধারী ভুয়া ডেন্টিস্টকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজাসহ ১লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। অভিযানের পরের কয়েকমাস দুই-তিনজন বাদে সাভারে দন্ত চিকিৎসক বা দন্ত চিকিৎসালয় খোঁজেই পাওয়া যায়নি। কিন্তু বর্তমানে সাভারের বিভিন্ন মার্কেটে, আবাসিক ভবনে, এমনকি পাড়ার অলিতে গলিতে ব্যঙ্গের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ডেন্টাল কেয়ার বা ডেন্টাল ক্লিনিক নামের দন্ত চিকিৎসালয়। রহস্যজনক ভাবে দীর্ঘদিন যাবত এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।

এ ব্যপারে ঢাকা জেলার সিভিল সার্জেন্ট এহসানুল করিম বলেন- “যদি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রী ছাড়া কেউ চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এবং বিএমডিসির রেজীষ্টার্ড না হয়ে নামে চিকিৎসক পদবী ব্যবহার করে, তাহলে তারা মানুষের সাথে প্রতারনা করছে। এদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত অভিযান চালিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

বানিমি/আজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *