খালেদা জিয়ার নামে মোট কতটি মামলা রয়েছে?

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট (মোঃ আবুল বাশার)

বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

“জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট” দুর্নীতি মামলায় পাচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।

১৯৯১ সালে বিএনপি সমর্থিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই সময় কুয়েত সরকার বাংলাদেশের এতিমদের জন্য ২ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী বেগম জিয়া এই টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।

২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় থাকা কালীন সময়ে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় পাচ বছরের সাজায় দন্ডিত হয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তবে এই মামলা ছাড়াও আরো বড় চারটি দুর্নীতির মামলায় লড়ে যেতে হবে খালেদা জিয়াকে।যার মধ্যে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর।

খালেদা জিয়া নাইকো মামলা:

কানাডিয়ান তেল- গ্যাস কোম্পানী নাইকোর সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশের ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়।এই বিষয়ে সেনা সমর্থিত সরকার ২০০৮ সালে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।এই মামলায় শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া দুই জনেই আসামী ছিলেন।কারন নাইকোর সাথে প্রথম চুক্তি করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর এই মামলা থেকে শেখ হাসিনা রেহায় পেলেও রয়ে যায় খালেদা জিয়ার নাম।

খা‌লেদা জিয়া ও তা‌রেক রহমান‌কে ছাড়া বিএন‌পি কি নির্বাচ‌নে যা‌বে?

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলে বিএনপির বুক কাপে : হাছান

বিএনপির শক্তি দিন দিন কমছে : কা‌দের

তিস্তার পানির সমাধান কোথায় : আলমগীর

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কমিশনের শেষ পরীক্ষা : গয়েশ্বর

 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাঃ

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বহুল আলোচিত এই মামলাটি দায়ের করা হয় । মামলায় ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে খালেদা জিয়ার পক্ষে।

গ্যাটকো মামলাা  : 

ঢাকার কমলাপুরে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মান কাজ যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন না করে গ্যাটকো নামের একটি কোম্পানিকে  দেওয়া হয়। যার ফলশ্রুতিতে ২০০৭ সালে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলাঃ

চুক্তিবদ্ধ কোম্পানী শর্ত ভংগ করে সরকারের চোখের সামনে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কয়লা খনন করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করে।সরকার প্রধান হিসাবে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করতে বিফল হয়েছেন এমন অভিযোগে মামলায় জড়িয়ে পড়ে বেগম জিয়ার নাম।

উল্লেখ্য, নাইকো, গ্যাটকো, বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির মামলায় পুলিশ এখনো চার্জশিট দেয়নি।

অবশ্য বিএনপির পক্ষ থেকে এই সকল মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, রাজণৈতিক হয়রানিমুলক দাবি করা হয়েছে বরাবরই।

এ বিষয়ে আইনজীবী মাসুদ আহমেদ বলেন, ২০০৭-০৮ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে করা এই রকম শত শত মামলা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে প্রত্যাহার করে নিলেও বিএনপির আবেদনগুলোর বিষয়ে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি।’

দুর্নীতির এই পাচটি মামলা ছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার নামে আরো ৩১ টি মামলা রয়েছে।এরমধ্যে নাশকতার মামলা রয়েছে ১১ টি এবং একটি মামলা রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার ১৫ আগস্ট এর জন্মদিন বিষয়ে এবং সেই সাথে রয়েছে মানহানি ও রাষ্ট্র দ্রোহিতার অনেক মামলা।

বাংলানিউজমিডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *